মোট 250+ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর ব্যাখ্যাসহ
ফসল উৎপাদনের অন্যতম মাধ্যম কোনটি?
কৃষি ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক জীবনধারণের মূল ভিত্তি হলো মাটি, যা প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রধান উপাদান। ফসল উৎপাদনের জন্য মাটি একটি অপরিহার্য ভৌত ও পুষ্টি সরবরাহকারী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। মাটি উদ্ভিদকে শক্তভাবে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অবলম্বন দান করে এবং মূল কাণ্ডকে স্থির রাখে। এছাড়া উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয় পানি, খনিজ লবণ ও পুষ্টি উপাদান মাটি ধারণ করে রাখে। উপযুক্ত মাটি ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে বড় স্কেলে ফসল উৎপাদন ও কৃষি কাজ সম্পাদন করা অসম্ভব
নিচের কোনটির জন্য জমি চাষের প্রয়োজন হয় না?
পান চাষের ক্ষেত্রে সনাতন বা প্রচলিত উপায়ে জমি গভীর করষণ বা নাঙল দিয়ে চাষ করার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। মাটি সামান্য প্রস্তুত করে সোজা পানের লতা বা কাটিং রোপণ করলেই তা থেকে নতুন লতা ও পাতা গজায়। কিন্তু ধান, গম ও আলু চাষের জন্য জমি একাধিকবার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করা বাধ্যতামূলক। পানের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো বরজ তৈরি করা এবং মাটির উপরের স্তরে আর্দ্রতা বজায় রাখা। তাই শ্রম ও খরচ বাঁচিয়ে কোনো প্রকার জমি চাষ ছাড়াই সাফল্যের সাথে পান চাষ করা সম্ভব।
ভূমি ক্ষয়ের ফলে জমি—
i. উর্বরতা হারায়
ii. নরম হয়
iii. কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অসুবিধা হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
বৃষ্টির পানি, নদীর স্রোত বা বাতাসের বেগে মাটির উপরিভাগের উর্বর অংশ ক্ষয় হয়ে অন্য কোথাও ভেসে বা উড়ে যাওয়াকে ভূমি ক্ষয় বলে। মাটির একদম উপরের স্তরে (Topsoil) গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান সবচেয়ে বেশি থাকে। ভূমি ক্ষয়ের ফলে এই উপরিভাগ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জমি তার উর্বরতা হারায় (i)। এছাড়া ক্রমাগত মাটির ক্ষয়ের ফলে জমিতে বড় বড় খানাখন্দ বা নালার সৃষ্টি হয়, যা জমিকে অসমতল করে তোলে এবং ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলারের মতো কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অসুবিধা (iii) তৈরি করে।
সাইলেজ তৈরির জন্য নিচের কোনটি ব্যবহার করা হয়?
রসালো সবুজ ঘাসকে বাতাসহীন পাত্রে বা সাইলো পিটে পঁচিয়ে সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়াকে সাইলেজ বলে। সাইলেজ তৈরির সময় ফারমেন্টেশন বা গাজন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সবুজ ঘাসের সাথে 'গুড় দ্রবণ' (মোল্যাসেস) মেশানো হয়। গুড়ে থাকা শর্করা অণুজীবের খাদ্য হিসেবে কাজ করে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি নিশ্চিত করে। এই ল্যাকটিক অ্যাসিড ঘাসকে পচনের হাত থেকে রক্ষা করে এর পুষ্টিগুণ দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই সাইলেজ প্রস্তুত করার জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান হলো গুড় দ্রবণ।
পুকুরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ ন্যূনতম কত হতে হয়?
পুকুরে মাছের স্বাভাবিক জীবনধারণ ও মুক্ত শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য দ্রবীভূত অক্সিজেন (Dissolved Oxygen) আবশ্যক। সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ শতকরা সর্বনিম্ন ৫% বা ৫ পিপিএম থাকা জরুরি। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ এই ঘনমাত্রার নিচে নেমে গেলে মাছ শ্বাসকষ্টে ভেসে ওঠে। বিশেষ করে ভোরের দিকে সূর্যালোকের অভাবে পানিতে সালোকসংশ্লেষণ না হওয়ায় অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। তাই মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জলাশয়ে দ্রবীভূত অক্সিজেনের সঠিক শতকরা হার বজায় রাখতে হয়
অঙ্কুরোদগমের জন্য বীজ বেশি সময় জাগ দিয়ে রাখতে হয়—
i. আউশ ধান
ii. আমন ধান
iii. বোরো ধান
নিচের কোনটি সঠিক?
অঙ্কুরোদগমের জন্য বীজ বেশি সময় জাগ দিয়ে রাখতে হয় মূলত বোরো ধানের ক্ষেত্রে। কারণ বোরো ধান শীতকালে চাষ হয়, তখন তাপমাত্রা কম থাকে। ফলে বীজ অঙ্কুরোদগমে সময় বেশি লাগে।
মিনার সংগ্রহ করা মুরগিগুলোর বয়স কত ছিল?
লেয়ার মুরগির জীবনচক্রকে প্রধানত প্রারম্ভিক, বাড়ন্ত এবং ডিমপাড়া বা বয়স্ক—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে মিনা বেগমের সংগ্রহ করা ২০টি লেয়ার মুরগির বাড়ন্ত পর্যায় বা গ্ৰোয়ার পর্যায় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সাধারণত লেয়ার মুরগির বাড়ন্ত পর্যায় শুরু হয় ৮ সপ্তাহ থেকে এবং তা প্রায় ২০ সপ্তাহ বা ১৪০-১৫০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ১৫০ দিন বয়সের পর থেকে লেয়ার মুরগি বাড়ন্ত পর্যায় অতিক্রম করে ডিম দেওয়া শুরু করে বা ডিমপাড়া পর্যায়ে উন্নীত হয়।
মিনা বেগমের মুরগিগুলোর জন্য দৈনিক মোট কত পরিমাণ খাদ্য প্রয়োজন হবে?
একটি পূর্ণবয়স্ক ডিমপাড়া লেয়ার মুরগির দৈনিক খাদ্যের গড় চাহিদা থাকে প্রায় ১১২ থেকে ১২০ গ্রাম (বা ০.১১২-০.১২ কেজি)। উদ্দীপক অনুযায়ী মিনা বেগমের খামারে মোট ২০টি বয়স্ক ডিমপাড়া লেয়ার মুরগি বিদ্যমান রয়েছে। তাহলে ২০টি মুরগির জন্য দৈনিক মোট খাদ্যের প্রয়োজন: (২০ × ১২০ গ্রাম) = ২৪০০ গ্রাম বা ২.৪ কেজি (প্রায় ২.৫ কেজি)। তবে সাধারণ খামার নির্দেশিকা ও বিকল্পের বিচারে এই পরিমাণ ২.০ কেজির স্কেলে অথবা ডিমের প্রারম্ভিক স্কেলে খাদ্য পরিমাপ করা হয়।
সাধারণত মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হয়—
i. হাওরে
ii. বিলে
iii. পুকুরে
নিচের কোনটি সঠিক?
মাছের অভয়াশ্রম সাধারণত উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে নির্মাণ করা হয় যেন দেশীয় প্রজাতি সুরক্ষিত থাকে। আমাদের দেশের বিস্তৃত হাওর ও বিল অঞ্চল হলো মুক্ত জলাশয়, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর মাছ প্রজনন করে। এসব হাওর ও বিলে অভয়াশ্রম স্থাপন করলে স্থায়ীভাবে মা-মাছ রক্ষা পায় এবং রেনু পোনা বাড়ে। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত ছোট পুকুরে সাধারণত অভয়াশ্রম স্থাপনের প্রয়োজন হয় না। তাই মাছের বংশবৃদ্ধির সুবিধার জন্য হাওর ও বিলকেই অভয়াশ্রম স্থাপনের উপযুক্ত স্থান ধরা হয়।
রাফেজ জাতীয় খাদ্যে কোনটি বেশি পাওয়া যায়?
পশুখাদ্যকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়— দানাদার খাদ্য এবং রাফেজ বা আঁশযুক্ত খাদ্য। সবুজ কাঁচা ঘাস, খড়, সাইলেজ ও হে হলো রাফেজ বা স্থূল জাতীয় খাদ্যের প্রধান উদাহরণ। এই ধরনের খাদ্যে অপরিশোধিত 'আঁশ' বা সেলুলোজের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি (কমপক্ষে ১৮% এর বেশি) বজায় থাকে। আঁশযুক্ত খাবার গবাদিপশুর রোমান্থন (জাবর কাটা) এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক চালনায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পুষ্টি উপাদানের বিন্যাস অনুযায়ী রাফেজ খাদ্যে আঁশজাতীয় পদার্থের আধিক্য সর্বাধিক থাকে।
পুকুরে বকচরের অবস্থান কোথায়?
পুকুর খনন করার সময় পার যেন সহজে ভেঙে না পড়ে এবং স্থায়িত্ব পায় সেজন্য বিশেষ নকশা মেনে চলা হয়। পুকুর পাড়ের ওপরের সমতল প্রান্ত এবং ঢালের সংযোগস্থলের মাঝের সমতল ফাঁকা জায়গাকে 'বকচর' (Berm) বলা হয়। এই বকচর থাকার কারণে বৃষ্টির পানিতে পারের মাটি সরাসরি ধসে বা গড়িয়ে পুকুরের তলদেশে গিয়ে জমা হতে পারে না। এটি মূলত পারের মাটি শক্ত রাখে এবং খামারিকে পুকুরের চারপাশে সহজে হেঁটে পরিচর্যা করার সুযোগ এনে দেয়। আধুনিক পুকুর নির্মাণের সময় পাড় ও ঢালের মাঝামাঝি এই সুনির্দিষ্ট অংশটি রাখা বাধ্যতামূলক হিসেবে গণ্য করা হয়।
মৎস্য সংরক্ষণ আইন কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
দেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মাছের প্রজনন, বেড়ে ওঠা ও পোনামাছ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োজন হয়। পোনামাছ ও ডিমওয়ালা মা-মাছ রক্ষা করার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম '১৯৫০ সালে' ঐতিহাসিক মৎস্য সংরক্ষণ আইন প্রবর্তিত হয়। ১৯৫০ সালের এই আইনটি পরবর্তীতে সময়ে সময়ে সংশোধন করে আরও কঠোর ও বাস্তবসম্মত রূপ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে কারেন্ট জাল নিষিদ্ধ করা ও জাটকা নিধন রোধে এই আইনের সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ ঘটে থাকে। দেশের সামগ্রিক মৎস্য সম্পদকে রক্ষা করা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ১৯৫০ সালের এই আইনের অবদান অনস্বীকার্য।
এক থেকে দেড় মাসের মুরগির বাচ্চাকে কোন ঘরে রেখে পালন করা হয়?
হাঁস-মুরগি পালনের ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্য ও দৈহিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পৃথক ঘরের ব্যবস্থা করা জরুরি। ডিমপাড়া লেয়ার বা সাধারণ মুরগির বাচ্চার বয়স যখন ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ (বা এক থেকে দেড় মাস) পৌঁছায়, তখন তাদের নতুন ঘরে আনা হয়। এই বয়সের বাচ্চাকে প্রাথমিক ব্রুডিং গৃহ থেকে সরিয়ে তাদের বৃদ্ধির উপযোগী বিশেষ 'গ্রোয়ার ঘর'-এ স্থানান্তর করা হয়ে থাকে। গ্রোয়ার ঘরে পর্যাপ্ত আলো, বাতাস ও হাঁটাচলার জায়গা নিশ্চিত করা হয় যাতে বাচ্চার শারীরিক গঠন ও হাড় মজবুত হতে পারে। এই ঘরে থাকা অবস্থায় মুরগির ছানাগুলো ডিম দেওয়ার পূর্ববর্তী পর্যায় পর্যন্ত উপযুক্ত খাবার পেয়ে ধাপে ধাপে বেড়ে ওঠে।
নমুনা বীজের ওজননমুনা বীজের ওজন−নমুনা বীজ শুকানোর পর ওজন×১০০
সূত্রটি কোনটির জন্য ব্যবহার করা হয়?
বীজ দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য বীজের ভেতরের পানির পরিমাণ বা আদ্রতা সঠিকভাবে জানা জরুরি। আর্দ্রতা পরিমাপের জন্য গাণিতিক সূত্র: {নমুনা বীজের ওজন} - {নমুনা বীজ শুকানোর পর ওজন} / {নমুনা বীজের ওজন} * ১০০ ব্যবহার করা হয়। এই সূত্রের সাহায্যে বীজ থেকে শতকরা কত ভাগ পানি বা আর্দ্রতা বাষ্পীভূত হলো তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়। অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকলে বীজ গুদামে সহজে পচে যায় কিংবা ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণের শিকার হয়। সাধারণত সঠিক আর্দ্রতা মান (যেমন ৮-১২%) বজায় থাকলে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ও জীবনীশক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
কোন মাছের খাদ্য তৈরিতে আমিষের অনুপাত বেশি রাখতে হয়?
মাগুর হলো ক্যাটফিশ প্রজাতিভুক্ত একটি অত্যন্ত রুচিশীল মাংসাশী বা শিকারী স্বভাবের মাছ। এদের দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য অন্যান্য সাধারণ মাছের চেয়ে বেশি প্রোটিন লাগে। মাগুর মাছের সুষম সম্পূরক খাদ্য প্রস্তুত করতে প্রায় ৩০% থেকে ৩৫% আমিষ বা প্রোটিন যুক্ত করতে হয়। রুই, মৃগেল বা সরপুঁটি মাছ প্রধানত সর্বভুক ও নিরামিষাশী হওয়ায় এদের খাদ্য তৈরিতে কম প্রোটিন লাগে। মাছের খাদ্যে আমিষের ঘাটতি থাকলে মাগুর মাছের স্বাভাবিক বাড়বাড়ন্ত একবারে স্তব্ধ হয়ে যায়
2026 সালের আরও 235+ বোর্ড প্রশ্ন আছে
ফ্রি সাইন আপ করে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিস করো