মোট 50+ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর ব্যাখ্যাসহ
কলা চাষের সময় প্রধানত কয়টি রোগের আক্রমণ দেখা দেয়?
কলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় বাণিজ্যিক ফল যা চাষের সময় নানা সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। কৃষি বিজ্ঞান ও পাঠ্যবইয়ের তথ্য অনুযায়ী কলা চাষের সময় প্রধানত ৪টি মূল রোগের আক্রমণ দেখা দেয়। এই ৪টি প্রধান রোগের মধ্যে সিগাটোগা, পানামা, বানচি টপ এবং কান্ডের কন্দ পচা রোগ সবচেয়ে মারাত্মক। এসব রোগ সময়মতো প্রতিহত করতে না পারলে কলার কাঁধি ছোট হয়, পাতা শুকিয়ে যায় ও ফলন শূন্যে নেমে আসে। তাই আধুনিক কলা চাষে এই নির্দিষ্ট প্রধান ৪টি রোগের হাত থেকে বাগান রক্ষা করার বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
হৃদী আমের চারাগুলো কোন ধরনের নার্সারি থেকে সংগ্রহ করেছে?
ব্যবসায়িক নার্সারি হলো এমন প্রতিষ্ঠান যেখানে লাভজনক উপায়ে চারা ও কলম উৎপাদন করে সাধারণ বা বাণিজ্যিক চাষীদের কাছে বিক্রি করা হয়। হৃদী যেহেতু একটি নার্সারি থেকে সরাসরি চারা কিনে এনেছে, তাই এটি ব্যবসায়িক নার্সারির অন্তর্ভুক্ত
হৃদী কোন পদ্ধতিতে আমের বীজ নিষ্কাশন করেছিল?
আমের বীজ বা আঁটি সংগৃহীত হওয়ার পর এর উপরিভাগের শক্ত খোসা রোদে শুকিয়ে আলগা করা হয় এবং ভেতর থেকে বীজের অংশটি সাবধানে বের করে আনা হয়। এই পদ্ধতিকে 'শুকনো পদ্ধতি' বলা হয়, যা বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা নষ্ট না করে নিরাপদে বীজ নিষ্কাশনে ব্যবহৃত হয়।
সর্বনিম্ন কত হেক্টর জমি হলে একটি লাভজনক কৃষি খামার পরিচালনা করা যায়?
যান্ত্রিক সুবিধা ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োগের জন্য কৃষি খামারের আয়তন একটি প্রধান নিয়ামক। কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে লাভজনকভাবে বৈজ্ঞানিক কৃষি খামার পরিচালনা করতে সর্বনিম্ন ১ হেক্টর জমি থাকা দরকার। এক হেক্টরের (প্রায় ২৪৭ শতক) কম জমিতে যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও সার্বিক উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি পড়ে। এই ন্যূনতম জমিতে ফসল পর্যায় অনুসরণ করে সারা বছর আধুনিক উপায়ে লাভজনকভাবে চাষাবাদ করা যায়। তাই ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক ঝুঁকি এড়িয়ে সার্থক খামার গড়ে তুলতে সর্বনিম্ন ১ হেক্টর জমির শর্ত পূরণ করতে হয়।
কোনটি চরমবিপন্ন প্রজাতির মাছ?
আমাদের মুক্ত জলাশয়, নদী ও প্রাকৃতিক জলাধার নষ্ট হওয়ার দরুন অনেক দেশীয় মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (IUCN) অনুযায়ী আমাদের বেশ কিছু মাছকে সংকটাপন্ন ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে 'সরপুঁটি' হলো বাংলাদেশে অন্যতম এক অতি পরিচিত এবং 'চরমবিপন্ন' প্রজাতির দেশি মাছ। প্রজনন ক্ষেত্রের চরম অভাব ও অতি আহরণের ফলে প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে এই সুস্বাদু মাছটি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে খামারে চাষ করা হলেও প্রাকৃতিক বিচারে এটি একটি চরমবিপন্ন প্রজাতি।
মোজাকের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় এলাকায়। সে তার জমিতে ধান চাষ করে কখনই ভালো ফলন পায় না। তার এলাকায় কোন ফসল চাষ করতে হবে?
সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে প্রচুর পরিমাণে লবণের উপস্থিতি থাকায় সেখানে সাধারণ ধান জন্মায় না। এই লবণাক্ততা সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সহিষ্ণু ধান উদ্ভাবন করেছে। 'বিনা ধান ৮' হলো একটি অত্যন্ত আধুনিক উচ্চফলনশীল লবণা সহ্য করতে পারা উন্নত ধানের জাত। এই জাতটি উপকূলের অতিরিক্ত লবণাক্ত মাটি ও পানিতেও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠে সন্তোষজনক ভালো ফলন দিতে সক্ষম। তাই মোজাকের মতো উপকূলের কৃষকরা বিনা ধান ৮ চাষ করলে কম ফলনের সমস্যা কাটিয়ে লাভবান হতে পারবেন।
খরা প্রতিরোধের কৌশল কয়টি?
কৃষিবিজ্ঞানে খরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ফসল টিকিয়ে রাখার কৌশলগুলোকে প্রধানত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। কৌশল তিনটি হলো— খরার হাত থেকে আত্মরক্ষা বা পরিহার (Drought Avoidance), খরা সহনশীলতা (Drought Tolerance) এবং খরা থেকে পুনরুদ্ধার (Drought Recovery)। ফসল তার শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন কিংবা জীবনকাল ছোট করার মাধ্যমে খরার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করে। মাটির ভেতরে মূল গভীরে পাঠিয়ে পানি শোষণ বাড়ানো বা পাতায় পানি ধরে রাখাও এসব কৌশলের অংশ। পরিবেশগত ও প্রাকৃতিক বৈরী পরিস্থিতিতে এই কৌশলগুলো উদ্ভিদের বেঁচে থাকা এবং ফলন বজায় রাখতে সাহায্য করে
ফুল আসার পর কোন পোকার আক্রমণে ধানের শীষে সাদা চিটা হয়?
ধান ফসলের থোড় আসার পর বা ফুল ফুটলে কাণ্ড ছিদ্রকারী মাজরা পোকার আক্রমণ মারাত্মক রূপ নেয়। এই পোকার কিড়া ধান গাছের কাণ্ডের ভেতরের অংশ খেয়ে ফেলে পুষ্টি ও পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। ফলে ধানের শীষ বের হলেও তাতে কোনো চাল তৈরি হতে পারে না এবং পুরো শীষ সাদা শুকনা বর্ণ ধারণ করে। কৃষকের ভাষায় ধানের এই অবস্থাকে 'সাদা চিটা' বা 'মাজরা মড়া' বলা হয়ে থাকে। তাই ফুল আসার পর এ আক্রমণের প্রধান জন্য দায়ী মাজরা পোকা।
কৃষি সমবায় কী?
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও কৃষি উৎপাদনের সুবিধার্থে যৌথ প্রয়াসকে 'কৃষি সমবায়' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এটি মূলতঃ কৃষকদের দলবদ্ধ উদ্যোগে শস্য উৎপাদন, সম্পদ ব্যবহার এবং পণ্য বাজারজাতকরণের একটি সমন্বিত কার্যক্রম। এককভাবে ক্ষুদ্র কৃষকদের পক্ষে আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা বা বড় বাজারে ভালো দামে ফসল বিক্রি করা সম্ভব হয় না। সমবায় সমিতির মাধ্যমে কৃষক একত্রিত হয়ে কম খরচে সেচ, সার ও বীজের সুবিধা পান এবং যৌথভাবে পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান। সার্বিক কৃষি ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও কৃষকের আর্থ-সামাজিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এটি একটি দারুণ পদক্ষেপ।
রবি মৌসুমে সেচ নির্ভর ফসল কোনটি?
বাংলাদেশে শীতকালীন বা শুষ্ক সময়কে কৃষির ভাষায় 'রবি মৌসুম' হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। রবি মৌসুমে বৃষ্টিপাত একদমই কম হওয়ায় ফসলের সফল উৎপাদনের জন্য সেচের ওপর পূর্ণ নির্ভর করতে হয়। অপশনগুলোর মধ্যে বেগুন একটি অন্যতম রবি মৌসুমের ফসল যা ফলাতে নিয়মিত কৃত্রিম সেচ সরবরাহ করতে হয়। সময়মতো সেচ না দিলে বেগুনের ফুল ঝরে পড়ে, গাছের বৃদ্ধি থমকে যায় এবং ফলের মান কড়া হয়ে নষ্ট হয়। তাই ভালো ফলন ও পর্যাপ্ত রস পেতে এই শীতকালীন বেগুন চাষে পানি সেচ দেওয়া বাধ্যতামূলক একটি নিয়ম
কন্টোর পদ্ধতিতে জমি চাষ করলে-
i. ভূমিক্ষয় রোধ হয়
ii. মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ে
iii. ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
পাহাড়ি ও ঢালু জমিতে আড়াআড়িভাবে সমান উচ্চতা ধরে চাষ করার বিশেষ পদ্ধতিকে 'কন্টোর পদ্ধতি' বলা হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে আড়াআড়ি আল বা আইল তৈরির ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিচে গড়িয়ে যেতে পারে না। ফলে পাহাড়ি ঢলের সাথে ধুয়ে যাওয়া মাটি রক্ষা পায় অর্থাৎ ভূমিক্ষয় ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। একই সাথে মাটিতে পানির অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পেয়ে মাটির পানি ধারণক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা ফসলের জন্য উপকারী। তাই এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয় না, বরং বৃদ্ধি পায়।
কোনটি রাক্ষুসে মাছ?
জলজ বাস্তুতন্ত্রে যেসব মাছ আকারে বড় হয়ে পুকুর বা জলাশয়ের ছোট ছোট মাছ ও পোনা গিলে খেয়ে ফেলে, তাদের রাক্ষুসে মাছ বলে। 'চিতল' একটি পরিচিত শিকারী ও মাংসাশী প্রকৃতির রাক্ষুসে মাছ। এরা সাধারণত পুকুরের তলদেশে থাকে এবং অন্যান্য ছোট মাছ, চিংড়ি ও পোনা শিকার করে জীবনধারণ করে। বাণিজ্যিক মাছ চাষের পুকুরে চিতল মাছ থাকলে তা অন্য চাষযোগ্য পোনা খেয়ে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। অন্যদিকে পুঁটি, চান্দা বা চাপিলা হলো ছোট আকারের সাধারণ মাছ। তাই উল্লেখিত মাছগুলোর মধ্যে চিতলই হলো একটি প্রাকৃতির রাক্ষুসে মাছ।
উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ কোনটি?
উদ্ভিদবিজ্ঞান অনুযায়ী, পরাগায়ন ও নিষেকের পর বৈজ্ঞানিকভাবে উৎপন্ন পরিপক্ক ডিম্বককেই উদ্ভিদতাত্ত্বিক বা প্রকৃত বীজ বলে। মরিচ গাছের ফুল থেকে নিষেকের মাধ্যমে মরিচের ভেতরের এই ছোট ছোট বীজ উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে আদা, কচু, বা হলুদ এগুলো কোনো প্রকৃত বীজ নয়; এগুলো হলো উদ্ভিদের রূপান্তরিত কান্ড বা রাইজোম (Rhizome), যা অঙ্গজ উপায়ে রোপণ করা হয়।
কোনটি ডুবন্ত উদ্ভিদ?
পুকুর বা জলাশয়ে বিভিন্ন ধরনের জলজ উদ্ভিদ জন্মায় যার মধ্যে কিছু ভাসমান, কিছু নিমজ্জিত বা ডুবন্ত। 'কাঁটা শেওলা' হলো এমন একটি জলজ উদ্ভিদ যা সম্পূর্ণরূপে পানির নিচে কাদার সাথে বা পানিতে ডুবে থাকে। এর কোনো অংশ পানির ওপর ভেসে থাকে না, তাই এটিকে ডুবন্ত উদ্ভিদ বা নিমজ্জিত জলজ উদ্ভিদ বলা হয়। অন্যান্য উদ্ভিদ যেমন শাপলা বা পানা পানির উপরিভাগে ভেসে বা ছড়িয়ে থাকে। তাই জলজ উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসে কাঁটা শেওলা হলো একটি নিখুঁত ডুবন্ত উদ্ভিদ।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের কতভাগ মুক্ত জলাশয়?
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মোট জলাশয়কে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: মুক্ত জলাশয় ও বদ্ধ জলাশয়। নদী, নালা, খাল, বিল, প্লাবনভূমি ও হাওড়-বাওড় মিলিয়ে মুক্ত জলাশয় গঠিত। অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের বিরাট অংশ অর্থাৎ প্রায় ৮৮% (বা পাঠ্যবই তথ্য অনুযায়ী ৮০-৮৮%) ক্ষেত্রফল মুক্ত জলাশয়ের অন্তর্ভুক্ত। বাকি মাত্র ১২%-২০% অঞ্চল জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন পুকুর, দিঘি ও ঘেরের মতো বদ্ধ জলাশয়। এই বিস্তৃত মুক্ত জলাশয় আমাদের প্রাকৃতিক দেশি মাছের প্রধান প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্র। তাই আমাদের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৮৮% অংশই মুক্ত জলাশয়ের অধীনে পড়ে।
2017 সালের আরও 35+ বোর্ড প্রশ্ন আছে
ফ্রি সাইন আপ করে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিস করো