মোট 50+ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর ব্যাখ্যাসহ
কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সমবায়ের উদ্দেশ্য কী?
কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ফসলের সঠিক দাম পাওয়ার উদ্দেশ্যে একত্রে গঠিত সংস্থাই হলো বাজারজাতকরণ সমবায়। মধ্যস্বত্বভোগীদের অসৎ প্রভাব দূর করে উৎপাদিত শস্যের যৌক্তিক মূল্য স্থির করা এই সমবায়ের মূল লক্ষ্য। সঠিক বাজার তথ্য বিশ্লেষণ করে ফসলের ন্যায়সংগত বিক্রয় মূল্য বা 'পণ্যের মূল্য নির্ধারণ' নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে সাধারণ কৃষকরা তাদের ফসল কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন না এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হন। সমবায় ভিত্তিক এই বাজার ব্যবস্থার সুবাদে কৃষকের পণ্যের সরাসরি বিপণন সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত হয়ে ওঠে।
কোনটি ভাসমান উদ্ভিদ?
যেসকল জলজ উদ্ভিদের মূল বা শিকড় পুকুর বা জলাশয়ের তলার মাটির সাথে যুক্ত থাকে না, বরং পুরো গাছটি পানির উপরে স্বাচ্ছন্দ্যে ভেসে থাকে, সেগুলোকে ভাসমান উদ্ভিদ বলা হয়। 'টোপা পানা' হলো একটি মুক্ত ভাসমান উদ্ভিদ। বিপরীতে, শাপলা ও পানফল হলো 'মূলবদ্ধ ভাসমান উদ্ভিদ'— অর্থাৎ এদের পাতা ও ফুল পানিতে ভাসলেও গাছের শিকড় বা মূল জলাশয়ের তলার মাটিতে প্রথিত থাকে।
পাট—
i. পলিবাহিত উর্বর সমতল ভূমিতে বেশি জন্মে
ii. উর্বর দোআঁশ মাটি উপযোগী ফসল
iii. বাদামি গাছ ফড়িং দ্বারা বেশি আক্রান্ত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
পাট বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী আঁশজাতীয় শস্য যা পলিযুক্ত মাটিতে চমৎকারভাবে বাড়ে। এটি দেশের পলিবাহিত উর্বর সমতল ভূমি এবং সুনিষ্কাশিত দোআঁশ মাটিতে সবচেয়ে বেশি ও ভালো পরিমাণে জন্মে থাকে। তবে চাষাবাদের সময় পাটের জমিতে নানা ধরনের ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে বিছা পোকা ও ঘোড়াপোকা। ধান ক্ষেতের মতো পাট গাছে বাদামি গাছ ফড়িংয়ের আক্রমণ সাধারণত ঘটে না, কারণ এটি মূলত ধান ফসলের একটি পরিচিত পোকা। ফলে পাট চাষ সংক্রান্ত প্রথম দুটি বক্তব্য সঠিক হলেও তৃতীয় বক্তব্যটি কৃষি বিজ্ঞান বিচারে প্রযোজ্য নয়।
সারা বছর পানি থাকে এমন পুকুরে চাষযোগ্য মাছ কোনটি?
যেসব পুকুরে সারা বছর (১২ মাস) পানি ধরে থাকে সেগুলোকে স্থায়ী বা বহুবর্ষজীবী পুকুর বলা হয়ে থাকে। কার্প জাতীয় মাছ যেমন— রুই, কাতলা, মৃগেল ইত্যাদি ধীরে বৃদ্ধি পায় বলে দীর্ঘমেয়াদে বড় হওয়ার জন্য এদের সারা বছর পানি থাকে এমন পুকুরের প্রয়োজন হয়। এসব মাছের পূর্ণাঙ্গ বৃদ্ধির জন্য অন্তত ৮-১০ মাস বা এক বছর সময় নিরবচ্ছিন্ন পানির উপস্থিতি আবশ্যক। অন্যদিকে তেলাপিয়া বা সরপুঁটি স্বল্পমেয়াদী মরশুমি পুকুরেও চাষ করা সম্ভব। তাই স্থায়ী গভীর পুকুরে রুই-কাতলা জাতীয় কার্প মাছ চাষ করাই সবচেয়ে সুবিধাজনক।
কৃষি কাজের জন্য কোনটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ?
কষি উৎপাদনের প্রাণ হলো পানি। মাটির প্রচ্ছদন, বীজের অঙ্কুরোদ্গম, সার থেকে দ্রবীভূত উপাদান গাছের মূল দ্বারা গ্রহণ করা এবং সালোকসংশ্লেষণের মতো মূল জৈবিক কাজগুলো সম্পাদনের জন্য পানির কোনো বিকল্প নেই। পানি ছাড়া কৃষির অন্য কোনো উপকরণ (সার, বীজ বা যন্ত্রপাতি) কোনো কাজে আসে না।
কৃষি বনায়ন কত প্রকার?
একই জমি থেকে বহুবিধ ফসল এবং কাষ্ঠল বৃক্ষ উৎপাদনের সমন্বিত ব্যবস্থার নাম কৃষি বনায়ন। উপাদানের সংমিশ্রণ ও কাঠামোগত বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে কৃষি বনায়নকে মূলত ৩টি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়:
১. কৃষি-বৃক্ষ পদ্ধতি (Agro-silviculture): কাঠ বা ফলদ গাছের সাথে শাকসবজি বা ফসলের চাষ।
২. পশু-বৃক্ষ পদ্ধতি (Silvo-pastoral): গাছের নিচে ঘাস চাষ করে পশুপালন।
৩. কৃষি-পশু-বৃক্ষ পদ্ধতি (Agro-silvo-pastoral): গাছ, ফসল এবং গবাদিপশু বা হাঁস-মুরগির সমন্বিত খামার।
সুন্দরবন হলো—
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন একটি সুবিশাল ও অনন্য প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। এটি সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার পানির ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা লবণাক্ত পরিবেশের বিশেষ বন। উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের ম্যানগ্রোভ বা জোয়ার-ভাটার বনকে বলা হয় 'ম্যানগ্রোভ বন'। এখানে সুন্দরী, গেওয়া, গরান ইত্যাদি বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ জন্মায় যাদের শ্বাসমূল ও ঠেসমূল দেখা যায়। তাই সুন্দরবনকে একটি বিখ্যাত ও সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
চিংড়ি কখন খাদ্য গ্রহণ করে?
চিংড়ি স্বভাবগতভাবেই একটি নিশাচর প্রাণী অর্থাৎ এরা দিনের আলোর চেয়ে রাতের অন্ধকারে বেশি সক্রিয় থাকে। দিনের বেলা চিংড়ি সাধারণত জলাশয়ের তলদেশে কাদা বা আগাছার আড়ালে লুকিয়ে অবস্থান করে। সূর্যাস্তের পর বা রাতের অন্ধকার নেমে এলে এরা খাদ্যের খোঁজে পানির তলদেশে বিচরণ শুরু করে। তাই চিংড়ি খামারে সম্পূরক খাদ্য হিসেবে গুঁড়ো খাবার সাধারণত সন্ধ্যা বা রাতের বেলাতেই প্রয়োগ করা হয়। এতে খাদ্যের অপচয় কম হয় এবং চিংড়ি সঠিক সময়ে তা গ্রহণ করতে পারে।
রীমার জমিতে কত কেজি গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে?
বেগুনের নিবিড় চাষে ২ শতক জমির জন্য স্বাভাবিক মানদণ্ডে মোট ৮০ কেজি প্রক্রিয়াজাত গোবর সার দিতে হয়। মাটিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে পচনকৃত মুরগির বিষ্ঠা ও সরিষার খৈল প্রয়োগ করলে জমির অনুজীব সক্রিয় হয়। রা।
কৃষিবিদের পরামর্শের উদ্দেশ্য—
এই জৈব উপাদানগুলো বেগুনের গোড়া পচা এবং ঢলে পড়া বা ঝিমিয়ে পড়া রোগ কার্যকরভাবে রোধ করে। জৈব সারের রাসায়নিক ক্রিয়া মাটির স্বাস্থ্য ফিরিয়ে এনে ক্ষতিকর অনুজীবের বিস্তার থমকে দেয়। ফলে কৃষিবিদ কর্তৃক এই বিকল্প পরামর্শ দেওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বেগুন গাছের মাটিবাহিত রোগ প্রতিরোধ ক
হাসান তার পুকুরে সর্বনিম্ন কতটুকু তুঁতে দিল?
পুকুরের পানিতে ক্ষতিকর অ্যালগি বা শ্যাওলার অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে পানির উপরে লাল স্তর বা ব্লুম সৃষ্টি হয়। এটি দূর করতে প্রতি শতক পুকুরে পানির গভীরতা অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রায় তুঁতে বা কপার সালফেট ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ১ মিটার বা ৩.৫ ফুট গভীরতার পুকুরে প্রতি শতকের জন্য সর্বনিম্ন ১২ থেকে ১৫ গ্রাম তুঁতে প্রয়োজন হয়। হাসানের ১০ শতকের পুকুরে পানির গভীরতা ও সাধারণ মাত্রা হিসাব করলে প্রয়োগকৃত তুঁতের সর্বনিম্ন পরিমাণ দাঁড়ায় ১২০ গ্রাম। সঠিকভাবে সঠিক পরিমাণে তুঁতে ব্যবহার করলে পানিতে অক্সিজেনের সঠিক ভারসাম্য দ্রুত ফিরে আসে।
মাছগুলোকে সুস্থকরণে হাসানের করণীয়—
i. চুন প্রয়োগ
ii. জিপসাম প্রয়োগ
iii. ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ
নিচের কোনটি সঠিক?
বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পুকুরে প্রবেশ করলে বাইরের নানা রোগজীবাণু ও ক্ষতিকর পদার্থ পানিতে মিশে মাছকে রোগাক্রান্ত করে ফেলে। এই অবস্থায় পুকুরের রোগজীবাণু ধ্বংস করতে এবং পানি শোধন করতে ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ করা একটি জরুরি পদক্ষেপ। পাশাপাশি পানির অম্লতা দূর করে পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার জন্য এবং মাছের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে চুন প্রয়োগ করতে হয়। জিপসাম মূলত মাটির ক্ষারত্ব ও সালফারের ঘাটতি মেটাতে ব্যবহৃত হলেও রোগাক্রান্ত মাছের চিকিৎসায় এর ভূমিকা নেই। ফলে অসুস্থ মাছের রোগ নিরাময় ও পানির মান উন্নত করতে চুন ও ব্লিচিং পাউডারই কার্যকর ওষুধ
বিনা চাষে কোন ফসল আবাদ করা যায়?
জমি একাধিকবার চাষ না করে সরাসরি আগের ফসলের অবশিষ্টাংশে বীজ বুনে ফসল ফলানোকে 'বিনা চাষে আবাদ' বলে। বাংলাদেশের বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর পলিযুক্ত ভিজা মাটিতে বিনা চাষে 'ডাল' জাতীয় ফসল সহজেই বুনে দেওয়া যায়। বিশেষ করে আমন ধান কাটার ঠিক আগে বা পরে জমিতে জো এলে মসুর, খেসারি বা কলাইয়ের বীজ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এতে জমি চাষের বাড়তি খরচ ও সময় বেঁচে যায় এবং মাটির অবশিষ্ট রস ব্যবহার করেই বীজ গজিয়ে ওঠে। কিন্তু গম, আলু বা ধানের ক্ষেত্রে ভালোভাবে জমি চাষ ও মই দিয়ে মাটি প্রস্তুত করা একেবারেই বাধ্যতামূলক।
উপকূলীয় অঞ্চলে রবি মৌসুমে বৃষ্টি নির্ভর ফসল কোনটি?
উপকূলীয় অঞ্চলে শীতকালে (রবি মৌসুমে) সেচের মিঠা পানির প্রচণ্ড অভাব থাকে এবং মাটিতে লোনাভাব বৃদ্ধি পায়। সরিষা এমন একটি ফসল যা তুলনামূলক কম পানিসংবেদনশীল এবং মাটির অবশিষ্ট সঞ্চিত আর্দ্রতা এবং রবি মৌসুমের সামান্যতম প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাতকে কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত কম সেচে কাঙ্ক্ষিত ফলন দিতে পারে। তাই উপকূলের লবণাক্ত এলাকায় সরিষা একটি অন্যতম প্রধান বৃষ্টি নির্ভর ফসল।
পারিবারিক দুগ্ধখামারে সর্বোচ্চ কয়টি গাভী থাকে?
পরিবারের সদস্যদের নিজস্ব পরিচর্যা ও সম্পূরক আয়ের উদ্দেশ্যে পারিবারিক পর্যায়ে দুগ্ধ খামার গড়ে তোলা হয়। বাণিজ্যিক খামারের মতো এতে প্রচুর শ্রমিক বা বিশাল জায়গা ও মূলধনের জটিলতার প্রয়োজন হয় না। কৃষি নীতি ও পাঠ্যবইয়ের সংজ্ঞা অনুযায়ী একটি পারিবারিক দুগ্ধখামারে সর্বোচ্চ ৫টি গাভী রাখা যায়। গাভীর সংখ্যা ৫টির বেশি হয়ে গেলে তা আর পারিবারিক থাকে না, বরং আধা-বাণিজ্যিক বা বাণিজ্যিক খামারে রূপান্তরিত হয়। গৃহস্থালি উপায়ে ৩ থেকে ৫টি গাভী পালন করে পরিবারের দুধের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করা যায়।
2018 সালের আরও 35+ বোর্ড প্রশ্ন আছে
ফ্রি সাইন আপ করে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিস করো