মোট 270+ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর ব্যাখ্যাসহ
বিদায় হজের সময় মহানবি (স.) ও সাহাবিগণ কোথায় এসে ইহরাম বাঁধেন?
সঠিক উত্তর: (ঘ) যুল হুলাইফায়
বিদায় হজের সময় মহানবি (স.) ও সাহাবিগণ যুল হুলাইফায় এসে ইহরাম বাঁধেন। যুল হুলাইফা মক্কার নিকটবর্তী একটি স্থান যা মিকাত হিসেবে পরিচিত এবং এই স্থান থেকে হাজিরা ইহরাম বেঁধে থাকেন।
একজন ব্যবসায়ী ক্রেতার অজ্ঞাতসারে কখনো ওজনে কম দেন না। এখানে ব্যবসায়ীর আচরণ মূলত কোন বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন?
সঠিক উত্তর: (ক) তাকওয়া
একজন ব্যবসায়ী ক্রেতার অজ্ঞাতসারে ওজনে কম দেন না, এটি তাকওয়ার প্রতিফলন। তাকওয়া মানে আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলা। ব্যবসায় সত্য ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা তাকওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ওয়াদা পালনের আরবি প্রতিশব্দ কী?
সঠিক উত্তর: (গ) আল-আহদু
ইসলাম ধর্মে ওয়াদা পালন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওয়াদা পালনের আরবি প্রতিশব্দ হলো 'আল-আহদু'। এটি চুক্তি, অঙ্গীকার বা ওয়াদা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 'আসসিদকুন' শব্দের অর্থ সত্যবাদিতা, 'রিশওয়াতুন' অর্থ ঘুষ এবং 'আদল' অর্থ ন্যায়বিচার। যেহেতু প্রশ্ন ওয়াদা পালনের আরবি প্রতিশব্দ জানতে চেয়েছে, তাই 'আল-আহদু' সঠিক উত্তর।
“এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে, এটা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত।” আয়াতটি কোন সূরার অন্তর্গত?
সঠিক উত্তর: (ঘ) মারইয়াম
কুরআনের এই আয়াতটি (১৯:৭১) সূরা মারইয়াম-এর অন্তর্গত। এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, প্রত্যেককে জাহান্নামের ওপর দিয়ে যেতে হবে, যা আল্লাহর একটি নিশ্চিত সিদ্ধান্ত।
মহানবি (স.) মদীনায় কাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ও সৌহার্দ্য স্থাপন করেছেন?
সঠিক উত্তর: (গ) মুহাজির ও আনসারদের
মহানবি (স.) মদীনায় মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ও সৌহার্দ্য স্থাপন করেছেন। মুহাজিরগণ ছিলেন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আগমনকারী মুসলমান এবং আনসারগণ ছিলেন মদীনার আদি বাসিন্দা যাঁরা মুহাজিরদের আশ্রয় ও সাহায্য করেছিলেন। নবিজি (স.) এই দুই দলের মধ্যে এমনভাবে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিলেন যাতে তারা একে অপরের সাথে মিলেমিশে থাকতে পারে এবং একে অপরকে সহযোগিতা করে।
স্বদেশপ্রেম প্রমাণিত হয় —
সঠিক উত্তর: (A) জাতীয় উন্নতিতে অবদান রাখার মাধ্যমে।
স্বদেশপ্রেম জন্মভূমি ও তার জনগণের প্রতি আকর্ষণ, যা নিঃস্বার্থ দেশসেবায় প্রকাশিত হয়। দেশের জাতীয় উন্নতিতে অবদান রাখার মাধ্যমে এই নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম প্রমাণিত হয়।
ইমাম আবু হানিফা (র.) কে ইসলামি আইন শাস্ত্রের জনক বলা হয় কেন?
সঠিক উত্তর: (B) ফিকহ শাস্ত্রের অবদানের জন্য
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ইসলামি বিধি-বিধানকে একটি সুসংগঠিত ও যুক্তিনির্ভর কাঠামোতে উপস্থাপন করেছিলেন, যা ফিকহ শাস্ত্র নামে পরিচিত। তিনি কুরআন, হাদিস, কিয়াস, ইজমা ও ইস্তিহসানের মাধ্যমে নিত্যনতুন সমস্যার সমাধানে আইনগত দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। এই অবদানের জন্যই তাকে ইসলামি আইনশাস্ত্রের জনক বলা হয়।
(A) হাদিস শাস্ত্রের অবদানের জন্য: যদিও ইমাম আবু হানিফা একজন হাদিস বিশারদ ছিলেন, তবে তাকে মূলত ফিকহ শাস্ত্রের অবদানের জন্য ইসলামি আইনশাস্ত্রের জনক বলা হয়।
(C) তাফসীর শাস্ত্রের অবদানের জন্য: তাফসীর শাস্ত্র মূলত কুরআনের ব্যাখ্যার সাথে সম্পর্কিত, যা তার প্রধান অবদানের ক্ষেত্র ছিল না।
(D) আরবি শাস্ত্রের অবদানের জন্য: আরবি শাস্ত্র আরবি ভাষা ও ব্যাকরণের সাথে যুক্ত, যা তার মূল পরিচয় বা অবদানের কারণ নয়।
“আমরা ছোট জিহাদ থেকে বড় জিহাদের দিকে ফিরে এসেছি।” রাসূল (স.) এখানে বড় জিহাদ বলতে কী বুঝিয়েছেন?
সঠিক উত্তর: (ক) কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ
মুসনাদে আহমাদ-এর হাদিসে বলা হয়েছে, “প্রকৃত মুজাহিদ সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর আনুগত্য করার ব্যাপারে নিজের নফসের (কুপ্রবৃত্তির) সাথে জিহাদ করে।” রাসূলুল্লাহ (স.) বদর যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে বলেছিলেন, “আমরা ছোট জিহাদ থেকে বড় জিহাদের (কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ) দিকে ফিরে এসেছি।” এই হাদিসটির মাধ্যমে রাসূল (স.) কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদকে সবচেয়ে বড় জিহাদ বলে অভিহিত করেছেন।
জনাব 'ক' এর কর্মের মাধ্যমে নিচের কোনটি ফুটে উঠেছে?
জনাব 'ক' এর কাজের পরিণতি থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো —
i. বিশুদ্ধ মনে তওবা করে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতে হবে।
ii. অপরাধ বার বার করে তওবা করা।
iii. ভবিষ্যতে এরূপ পাপ না করার শপথ গ্রহণ করা।
নিচের কোনটি সঠিক?
যিনি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোতে পূর্ণ বিশ্বাস করেন তাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: (খ) মুমিন
ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোতে পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনকারী ব্যক্তিকে 'মুমিন' বলা হয়। 'মুমিন' শব্দটি 'ঈমান' থেকে এসেছে, যার অর্থ বিশ্বাস। যিনি আল্লাহ তায়ালা, তাঁর ফেরেশতাগণ, আসমানী কিতাবসমূহ, নবী-রাসূলগণ, পরকাল এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেন, তিনিই মুমিন।
(ক) মুসলিম: যিনি ইসলামের সকল বিধান মেনে চলেন এবং আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করেন, তাকে মুসলিম বলে। একজন মুসলিম মুমিনও হতে পারে, তবে সকল মুসলিমের ঈমানের দৃঢ়তা একরকম নাও হতে পারে।
(গ) মুজতাহিদ: যিনি শরীয়াহর গভীর জ্ঞান রাখেন এবং কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নতুন ইস’লামী বিধান বা মাস’আলা উদ্ভাবনের ক্ষমতা রাখেন, তাকে মুজতাহিদ বলে।
(ঘ) মুহাদ্দিস: যিনি হাদিস শাস্ত্রের পন্ডিত এবং হাদিসের বিশুদ্ধতা নির্ণয় ও ব্যাখ্যা প্রদানে পারদর্শী, তাকে মুহাদ্দিস বলে।
খুলাফায়ে রাশিদীনের আমলে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দলিলিক প্রমাণ হলো —
i. পবিত্র কুরআন সংকলন
ii. বিশ রাকাআত তারাবি জামাতে আদায়
iii. আকিকা করা
নিচের কোনটি সঠিক?
সঠিক উত্তর: (ক) i ও ii
পবিত্র কুরআন সংকলন: হযরত আবূ বকর (রা.)-এর সময়ে সাহাবিগণের ঐকমত্যের মাধ্যমেই কুরআন সংকলনের কাজ শুরু করা হয়, যা ইজমার একটি দলিলিক প্রমাণ।
বিশ রাকাআত তারাবি জামাতে আদায়: দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর সময়ে বিশ রাকাত তারাবি-এর সালাত জামায়াতের সাথে আদায় করার ব্যাপারে সাহাবিগণের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়।
আকিকা করা: আকিকা ইসলামের একটি বিধান হলেও, এটি খুলাফায়ে রাশিদীনের আমলে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দলিলিক প্রমাণ হিসেবে উল্লিখিত হয়নি।
আমানতের খিয়ানত করা কার চিহ্ন?
সঠিক উত্তর: (খ) মুনাফিকের
আমানতের খিয়ানত করা মুনাফিকের একটি অন্যতম চিহ্ন। মুনাফিকরা মুখে ঈমানের দাবি করলেও অন্তরে কুফরি পোষণ করে এবং আমানতের ক্ষেত্রে বিশ্বাসঘাতকতা করে। হাদিসে মুনাফিকের তিনটি পরিচয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তখন ভঙ্গ করে এবং যখন আমানত রাখা হয় তখন খিয়ানত করে।
'সুদের' আরবি প্রতিশব্দ কী?
সঠিক উত্তর: (ঘ) রিবা
সুদ ফার্সি শব্দ, এর আরবি প্রতিশব্দ হলো রিবা। ঋণের মূলধনের উপর অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে সুদ বা রিবা বলা হয়।
উদ্দীপকে [?] চিহ্নিত স্থানটিতে নিচের কোন তথ্যকে নির্দেশ করে?
2026 সালের আরও 255+ বোর্ড প্রশ্ন আছে
ফ্রি সাইন আপ করে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিস করো