মোট 270+ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর ব্যাখ্যাসহ
আল্লাহ তায়ালা ও রাসুল (স)-এর আনুগত্য করাকে কী বলে?
ইসলাম আরবি শব্দ । আভিধানিক অর্থ হলো আনুগত্য করা, আত্মসমর্পণ করা, শান্তির পথে চলা
ইত্যাদি । ব্যবহারিক অর্থে আল্লাহ তায়ালা ও রাসুল (স.)-এর আনুগত্য করাকে ইসলাম বলে । শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালার প্রতি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর নিকট পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করা, বিনা দ্বিধায় তাঁর যাবতীয় আদেশ নিষেধের আনুগত্য করা এবং তাঁর দেওয়া বিধান ও হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দেখানো পথ অনুসারে জীবনযাপন করাকে ইসলাম বলা হয় ।
সকল মানুষ আদম (আ)-এর বংশধর । এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
সকল মানুষ আদম (আ)-এর বংশধর—এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোত্র নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল মানুষ একই মূল থেকে আগত, ফলে সবাই পরস্পরের ভাই ভাই। এই শিক্ষা মানবজাতির মধ্যে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বার্তা প্রদান করে।
সনদের ভিত্তিতে হাদিস কত প্রকার?
সনদ বা রাবির পরম্পরার দিক থেকে হাদিস আবার তিন প্রকার । যথা- (ক) মারফু, (খ) মাওকুফ ও (গ)
মাকতু ।
ক. মারফু হাদিস
যে হাদিসের সনদ রাসুলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মারফু হাদিস বলা হয় ।
খ. মাওকুফ হাদিস
যে হাদিসের সনদ সাহাবি পর্যন্ত পৌছে শেষ হয়ে গেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌঁছেনি এরূপ হাদিসকে মাওকুফ হাদিস বলে ।
গ. মাকতু হাদিস
যে হাদিসের সনদ তাবিঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মাকতু হাদিস বলে । অন্যকথায়, যে হাদিসে কোনো তাবিঈর বাণী, কাজ ও মৌন সম্মতি বর্ণিত হয়েছে তাকে মাকতু হাদিস বলা হয় ।
নিফাক অর্থ কী?
নিফাক অর্থ হলো ‘কপটতা’ বা ছদ্মবেশ ধারণ করা। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে ধর্মীয় বা নৈতিক অনুশাসন মানলেও অন্তরে বিশ্বাস বা সদাচার থাকে না। ইসলামে নিফাককে মুনাফিকির সমার্থক হিসেবে দেখা হয়, যা একজনের চরিত্রের সবচেয়ে নেতিবাচক দিক।
মাদানি সুরার সংখ্যা কয়টি?
মাদানি সূরার সংখ্যা মোট ২৮টি।
এই সূরাগুলো সেই সময় অবতীর্ণ হয়েছে যখন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করেন এবং ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের কাজ শুরু করেন। মাদানি সূরাগুলোর বিষয়বস্তুতে সাধারণত সামাজিক বিধান, রাষ্ট্রীয় আইন, যুদ্ধ-বিধান, মুসলিমদের ও অমুসলিমদের মধ্যে সম্পর্ক ইত্যাদি গুরুত্ব পায়।
আরবের কোন গোত্র বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় কথা বলত?
জন্মের পর মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ধাত্রী মা হালিমার ঘরে লালিত-পালিত হন । হালিমা বনু সাদ গোত্রের লোক ছিলেন । আর বনু সাদ গোত্র বিশুদ্ধ আরবিতে কথা বলত । ফলে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)ও বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় কথা বলতেন ।
নবি-রাসুলগণের দায়িত্বের নাম কী?
নবী রাসূলগণের দ্বায়িত্বের নাম নবুওয়াত বা রিসালাত।
শাকিল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গ্রামের লোকদের টাকা ধার দেয়। বছর শেষে সে প্রতি হাজার টাকায় ১ মণ ধান মূলধনের সাথে বেশি আদায় করে। অপরদিকে তার ভাই জহির ছেলের বিয়ে উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী বাসভবন আলোকসজ্জা করে রাখে।
জহিরের কর্মকাণ্ডের ফলে—
i. সে অভাব অনটনে পড়বে
ii. অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে
iii. আল্লাহর বিরাগভাজন হবে
নিচের কোনটি সঠিক?
জহির মাসব্যাপী বাসভবন আলোকসজ্জা করে যা অতিরিক্ত খরচের কারণে তার পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে এবং এতে অভাব অনটনে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ইসলামি দৃষ্টিতে এই ধরনের অপচয় আল্লাহর নৈকট্য হারানোর কারণ হতে পারে, তাই আল্লাহর বিরাগভাজন হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
কোনটির মাধ্যমে তুমি মানবসেবা করতে চাইবে?
ক্ষুধার্তকে খাদ্যদান হলো মানবসেবার অন্যতম মহান কাজ। এটা সরাসরি মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে, তাদের জীবন বাঁচায় এবং মানবিক দায়িত্ব পালন করে। ক্ষুধার্তদের খাবার দেওয়া তাদের কষ্ট কমায়, সামাজিক সংহতি বাড়ায় এবং এক সমাজে মমত্ববোধ সৃষ্টি করে। তাই আমি মানবসেবায় ক্ষুধার্তকে খাদ্যদান করার মাধ্যমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে চাই, কারণ এটি মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের সবচেয়ে সরল ও কার্যকর উপায়।
কোন নবি কৃষি কাজ করতেন?
সঠিক উত্তর: (ক) হযরত আদম (আ)
ইসলামী ঐতিহ্য অনুসারে, হযরত আদম (আ) শুধু প্রথম মানব ও নবিই ছিলেন না, বরং তিনি কৃষি কাজও করতেন। তিনি জমিতে চাষাবাদ করে ফসল ফলানো এবং জীবিকা নির্বাহের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। অন্যান্য নবিরাও বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত ছিলেন, যেমন হযরত দাউদ (আ) ছিলেন কামার, হযরত ইদরিস (আ) সেলাই কাজ করতেন, এবং হযরত শিস (আ) বস্ত্র বুননের কাজ করতেন।
হায়দার সাহেব একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী। তিনি তার ধন-সম্পদ ইসলাম ও মানবতার সেবায় অকাতরে ব্যয় করেন। হায়দার সাহেবের কর্মকাণ্ডে কোন খলিফার আচরণের মিল পাওয়া যায়?
হায়দার সাহেবের কর্মকাণ্ডের সাথে হযরত উসমান (রা)-এর আচরণের মিল পাওয়া যায়। হযরত উসমান (রা) তার ধন-সম্পদ ইসলাম ও মানবতার সেবায় অকাতরে ব্যয় করতেন।
আনিসার নিকট তার প্রতিবেশী হাফসা মাছ কাটার জন্য বটি ধার চাইলে আনিসা তা দিতে অস্বীকার করে। তার স্বামী নয়ন সাধারণত বাড়িতে নামাজ আদায় করে। মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠনের কয়েকদিন আগ থেকে জামাআতে নামাজ পড়ে ও কমিটির সদস্য পদপ্রার্থী হয়।
নয়নের আচরণের ফলে সে ভোগ করবে-
i. দুনিয়ার দুর্ভোগ
ii. আল্লাহর অসন্তুষ্টি
iii. পরকালীন শাস্তি
নিচের কোনটি সঠিক?
সূরা আল-মায়উনের শিক্ষা অনুযায়ী নয়নের আচরণ মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, সুরাটির ৪-৭ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে—যারা নামাজ পড়ে কিন্তু তাতে আন্তরিকতা থাকে না, বরং লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে করে এবং যারা সাধারণ প্রয়োজনীয় জিনিস অন্যকে ধার দিতে কৃপণতা করে, তাদের জন্য দুর্ভোগ ও শাস্তির ঘোষণা আছে। নয়ন সাধারণত মসজিদে না গিয়ে ঘরে নামাজ পড়লেও মসজিদ কমিটির সদস্য হতে চাওয়ার কারণে হঠাৎ জামাআতে অংশগ্রহণ শুরু করে—যা ইখলাসবিহীন, লোক দেখানো ইবাদতের লক্ষণ হতে পারে। অন্যদিকে, আনিসা তার প্রতিবেশীকে সাধারণ প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করে—যা সুরা আল-মায়উনের ৭ নম্বর আয়াতের স্পষ্ট ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত। এই দুইটি আচরণ ইসলামের দৃষ্টিতে গর্হিত এবং এর ফলে তারা আল্লাহর অসন্তুষ্টি, দুনিয়ার দুর্ভোগ ও পরকালীন শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে।
হাসিব মনে করে, এই পৃথিবীর জীবনই একমাত্র জীবন। মৃত্যুর পরে মানুষ মাটির সাথে মিশে যাবে। তাকে আর কোনদিন জীবিত করা হবে। না। তার এ ধারণা কীসের শামিল?
হাসিবের এই ধারণা, অর্থাৎ মৃত্যুর পরে পুনরুজ্জীবনের বিরোধী মনোভাব এবং পৃথিবীর জীবনকে একমাত্র জীবন মনে করা, হলো কুফর এর শামিল। কারণ ইসলামে বিশ্বাস করা হয় মৃত্যুর পরে পরকালে জীবনের অস্তিত্ব থাকবে এবং সবাইকে আবার জীবিত করা হবে, যেখানে তাদের কাজের হিসাব নেয়া হবে। এই বিশ্বাস না করা বা অস্বীকার করা কুফরের মধ্যে পড়ে। তাই হাসিবের এ চিন্তা ইসলামি বিশ্বাসের পরিপন্থী এবং কুফর হিসাবে গণ্য।
হাদিসের মূল বক্তব্যকে কী বলে?
হাদিস অর্থ কথা বা বাণী । ইসলামি পরিভাষায় হাদিস বলতে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে বোঝানো হয় । হাদিসের দুটি অংশ: একটি সনদ (i) ও অপরটি মতন (ও) । হাদিসের রাবি পরম্পরাকে সনদ বলা হয় । যিনি হাদিস বর্ণনা করেন তাঁকে বলা হয় রাবি বা বর্ণনাকারী । হাদিস বর্ণনায় হাদিসের রাবিগণের পর্যায়ক্রমিক উল্লেখ বা বর্ণনা পরম্পরাই সনদ । আর হাদিসের মূল বক্তব্য বা মূল অংশকে বলা হয় মতন । হাদিস শাস্ত্রে সনদ ও মতন উভয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
কুরআন লিপিবদ্ধকারী সাহাবিগণের মধ্যে প্রধান কে ছিলেন?
যেসব সাহাবি লেখাপড়া জানতেন তাঁরা প্রায় সকলেই কুরআন লিখার মর্যাদা লাভ করেছিলেন । আল-কুরআন লিপিবদ্ধকারী সাহাবিগণকে বলা হয় কাতিবে ওহি বা ওহি লেখক । তাঁরা ছিলেন সংখ্যায় মোট ৪২ জন । এঁদের মধ্যে প্রধান ছিলেন হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.)।
2024 সালের আরও 255+ বোর্ড প্রশ্ন আছে
ফ্রি সাইন আপ করে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিস করো