মোট 720+ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর ব্যাখ্যাসহ
"নিশ্চয় সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে" এট কার বাণী?
নামায মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি জাগ্রত করে এবং তাকে নৈতিকভাবে শুদ্ধ ও সংযত জীবনযাপনে সহায়তা করে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই নামায মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে” (সূরা আল-আনকাবূত, ২৯:৪৫)। অর্থাৎ, নিয়মিত নামায আদায়কারীর মাঝে তাকওয়া সৃষ্টি হয়, যা তাকে অন্যায়, অশ্লীলতা ও পাপকর্ম থেকে বিরত রাখে।
জামায়াত শুরুর আগে ইকামত দেওয়ার বিধান কী?
যে সকল কাজ মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজে সর্বদাই পালন করতেন, অন্যদেরকে তা পালনের তাগিদ দিতেন তাকে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ বলে । যেমন- আযান ও ইকামত দেওয়া, ফজরের ফরজ নামাযের পূর্বে দুই রাকআত, যোহরের ফরজের পূর্বে চার রাকআত ও পরে দুই রাকআত, মাগরিব ও এশার ফরজের পর দুই রাকআত নামায আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ ।
"রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো। আর যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক"। এই আয়াত দ্বারা কীসের গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে?
"রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো। আর যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক"—এই আয়াতটি সূরা হাশর (৫৯:৭) থেকে নেওয়া হয়েছে। এ আয়াত দ্বারা রাসুলুল্লাহ (স)-এর আদেশ ও নিষেধ মানার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে, যা ইসলামি শরিয়তের একটি মৌলিক ভিত্তি। অর্থাৎ, শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে সুন্নাহ বা হাদিসের গুরুত্ব এই আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়।
“নিশ্চয় শিরক চরম জুলুম" বলেছেন কে?
শিরকের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সভা, ক্ষমতার সাথে এবং ইবাদতে অংশীদার সাব্যস্ত করা হয়, যা তাঁর সাথে জুলুম করার নামান্তর। তাই আল্লাহ সূরা লুকমানের ১৩ নম্বর আয়াতে শিরককে চরম জুলুম বলে অভিহিত করেছেন।
তাওহিদের বিপরীত কী?
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা । ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয় । যে ব্যক্তি শিরক করে তাকে বলা হয় মুশরিক । শিরক হলো তাওহিদের বিপরীত । আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং শিরকের ধারণা খণ্ডন করেছেন । তিনি বলেন- قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ
অর্থ : “বলুন (হে নবি!) তিনি আল্লাহ্, এক ও অদ্বিতীয় ।” (সূরা আল-ইখলাস, আয়াত ১) । অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন- অর্থ : “কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় ।” (সূরা আশ্-শুরা, আয়াত ১১) ।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কাদের ওপরই লানত (অভিসম্পাত) করেছেন??
হাদিস শরীফে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, "রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ের ওপরই লানত (অভিসম্পাত) করেছেন।" (তিরমিযী)
এই হাদিস অনুসারে, যারা ঘুষ দেয় এবং যারা ঘুষ নেয়, তারা উভয়েই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অভিশাপের পাত্র। একারণে এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং পরকালে এর জন্য কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
জনাব 'ক' একজন ফল বিক্রেতা। তিনি উপরে ভালো ফল সাজিয়ে রাখেন এবং নিচে পচা ফল রেখে ক্রেতাদের কাছে ভালো ফলের দামে বিক্রি করেন।
জনাব 'ক' এর এ কাজে কী প্রকাশ পেয়েছে?
ইসলামের দৃষ্টিতে জনাব 'ক'-এর এই কার্যকলাপ স্পষ্টভাবে প্রতারণা (ধোঁকা) হিসেবে গণ্য হবে, যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।" (সহীহ মুসলিম)। অপর একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, একবার এক ব্যক্তি খেজুর বিক্রি করছিল, রাসূল (সা.) তার খেজুরের ভেতরে ভেজা অংশ পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "এটা কী?" সে বলল, বৃষ্টির কারণে ভিজে গেছে। তখন তিনি বললেন: "তুমি এটা ওপরে রাখলে না কেন, যাতে লোকেরা দেখে নিতে পারে? যে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১০২)। এই হাদীসের আলোকে জনাব 'ক'-এর ভালো ফল উপরে রেখে নিচে পচা ফল রেখে বিক্রি করাটা স্পষ্টতই ইসলামে হারাম এবং গুনাহের কাজ, যা তার চরিত্রে অসততা, লোভ এবং আল্লাহর ভয় না থাকার প্রতিফলন ঘটায়।
পবিত্র কুরআনের ইসলামের কোন স্তম্ভের নামে একটি সূরা রয়েছে?
ইসলামে হজের গুরুত্ব অপরিসীম । আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সূরা হাজ্জ নামে একটি সূরা অবতীর্ণ করেছেন । এ ছাড়াও পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ হজের ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন । রাসুলুল্লাহ (স.) থেকেও হজের গুরুত্বের ব্যাপারে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে ।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন-
الحج الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءُ إِلَّا الْجَنَّةُ -
অর্থ : “মাকবুল (আল্লাহর নিকট গ্রহণীয়) হজের বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নেই ।” (বুখারি-মুসলিম) । হজের মাধ্যমে বিগত জীবনের গুনাহ মাফ হয় । মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি হজ করে সে যেন নবজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায় ।” (ইবনে মাজাহ)
জনাব 'ক' একজন ফল বিক্রেতা। তিনি উপরে ভালো ফল সাজিয়ে রাখেন এবং নিচে পচা ফল রেখে ক্রেতাদের কাছে ভালো ফলের দামে বিক্রি করেন।
জনাব 'ক' এর কাজে কোন কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে-
i. মিথ্যাচারের অপরাধ
ii. বিশ্বাস ভঙ্গের অপরাধ
iii. সামাজিক অপরাধ
নিচের কোনটি সঠিক?
জনাব 'ক' এর কার্যক্রমে তিনি মিথ্যাচারের মাধ্যমে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছেন, ফলস্বরূপ এটি 'মিথ্যাচারের অপরাধ' এবং তার থেকে ক্রেতারা প্রত্যাশিত ভালো ফল না পাওয়ায় 'বিশ্বাস ভঙ্গের অপরাধ' সংঘটিত হয়েছে। একই সাথে এটি সমাজে প্রতারণামূলক কাজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে যা 'সামাজিক অপরাধ' হিসেবে গণ্য হতে পারে।
কবরে যে সকল ফেরেশতা মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করবেন তাদেরকে বলা হয়-
দুনিয়াতে মানুষকে মৃত্যুর পর কবরস্থ করা হয় । এসময় মুনকার-নাকির নামক দুজন ফেরেশতা কবরে আসেন । তাঁরা মৃত ব্যক্তিকে তিনটি প্রশ্ন করেন । এগুলো হলো-
مَن رَّبِّكَ ؟ ا د
তোমার রব কে?
তোমার দীন কী?
- তোমার নবি কে? অথবা, je (রাসুল (স.) এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়) এই ব্যক্তি কে?
ঘুষখোর ব্যক্তি-
i. নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে
ii. আমানতের খিয়ানত করে
iii. নিজ দায়িত্বে অবহেলা করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ঘুষখোর ব্যক্তি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে, আমানতের খিয়ানত করে এবং নিজের দায়িত্বে অবহেলা করে। অর্থাৎ, সে ত্রুটি ও অন্যায়ের মাধ্যমে সমাজ ও প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতি করে।
রুকুর পর সোজা হয়ে দাঁড়ানোর বিধানটি হচ্ছে-
ওয়াজিব
ওয়াজিব অর্থ : অবশ্য পালনীয়, কর্তব্য, অপরিহার্য ইত্যাদি । শরিয়তের এমন কিছু বিধান রয়েছে যা পালন করা কর্তব্য । তবে ফরজ নয় । এরূপ বিধানকে ওয়াজিব বলা হয় ।
শরিয়তে ফরজের পরই ওয়াজিবের স্থান। এটি ফরজের কাছাকাছি । অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত না হলেও এটি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য । ওয়াজিব অস্বীকার করলে মানুষ কাফির হয় না। তবে সে বড় রকমের অপরাধী হিসেবে গণ্য হয় । ওয়াজিব কাজ আদায় না করলেও কঠিন পাপ হয় । এর জন্য আখিরাতে শাস্তি পেতে হবে । ইসলামি শরিয়তে বহু ওয়াজিব কাজ রয়েছে। যেমন- দুই ঈদের সালাত, বিতরের সালাত ইত্যাদি । সালাত আদায়ের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু ওয়াজিব কাজ রয়েছে । যেমন- সূরা ফাতিহা পড়া, রুকুর পর সোজা হয়ে দাঁড়ানো, সিজদাহর মধ্যে সোজা হয়ে বসা ইত্যাদি । সালাতের এসব ওয়াজিব কাজ বাদ পড়লে সিজদাহ সাহু দিতে হয় । নতুবা সালাত শুদ্ধ হয় না । পুনরায় তা আদায় করতে হয় ।
হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা) কুরআন সংকলনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কয়টি পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন?
হযরত আবু বকর (রা.) কুরআন সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন । তিনি প্রধান ওহি লেখক সাহাবি হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.)-কে এ গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন। হযরত যায়দ (রা.) কুরআন সংকলনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নিম্নোক্ত চারটি পন্থা অবলম্বন করেন :
ক. হাফিয সাহাবিদের তিলাওয়াতের মাধ্যমে প্রতিটি আয়াতের বিশুদ্ধতা ও নির্ভুলতা যাচাইকরণ ।
খ. হযরত উমর (রা.)-এর হিফযের সাথে মিলিয়ে আয়াতের বিশুদ্ধতা যাচাইকরণ ।
গ. রাসুলুল্লাহ (স.)-এর উপস্থিতিতে লিখিত হওয়ার ব্যাপারে ন্যূনতম দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ।
গ. চূড়ান্তভাবে লিখিত আয়াতগুলো অন্যান্য সাহাবির সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা ও যাচাইকরণ ।
রনি সাহেব মনে করেন, "আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের সাহায্য নিয়ে এ পৃথিবী পরিচালনা করেন"।
এমতাবস্থায় রনি সাহেবের করণীয়-
i. পুনরায় ইমান গ্রহণ করা
ii. আর কখনো এরূপ না করার শপথ নেওয়া
iii. খাঁটি অন্তরে তওবা করা
নিচের কোনটি সঠিক?
রনি সাহেবের এই বিশ্বাস যে "আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের সাহায্য নিয়ে এ পৃথিবী পরিচালনা করেন"—এটি ইমানের মৌলিক ভিত্তির সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যদি তিনি বোঝাতে চান যে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সাহায্য ছাড়া কিছুই করতে পারেন না। ইসলাম ধর্মে আল্লাহকে সর্বশক্তিমান ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে মানা হয়, যিনি কারো সাহায্যের মুখাপেক্ষী নন। যদিও ফেরেশতারা আল্লাহর আদেশ পালনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন, কিন্তু যদি কেউ এমনভাবে বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ ফেরেশতা ছাড়া কিছুই করতে পারেন না, তাহলে তা শিরকের কাছাকাছি একটি বিপজ্জনক ধারণা হয়ে দাঁড়ায়। এইরূপ ভুল আকিদা ইমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সংশোধনের জন্য একজন মুসলমানের উচিত খাঁটি অন্তরে তওবা করা, আবার ঈমান গ্রহণ করা এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল যেন না হয় সে প্রতিজ্ঞা করা। তাই রনি সাহেবের করণীয় হলো: খাঁটি অন্তরে তওবা করা, পুনরায় ইমান গ্রহণ করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল বিশ্বাস থেকে নিজেকে বিরত রাখা।
রনি সাহেব মনে করেন, "আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের সাহায্য নিয়ে এ পৃথিবী পরিচালনা করেন"।
'রনি' সাহেবের এ ধরনের বিশ্বাসের জন্য তিনি হবেন-
রনি সাহেব আল্লাহর সত্তার সঙ্গে ফেরেশতাদের ক্ষমতা ও অংশীদারিত্ব যুক্ত করেছেন, যা তাওহিদের পরিপন্থী। একমাত্র আল্লাহই সৃষ্টির একক মালিক ও পরিচালনাকারী। তাঁর সঙ্গে অন্য কারো কর্তৃত্ব বা অংশীদারিত্বের বিশ্বাস শিরকের অন্তর্ভুক্ত। তাই রনি সাহেবের এ ধরনের বিশ্বাস তাকে মুশরিক হিসেবে চিহ্নিত করে।
2023 সালের আরও 705+ বোর্ড প্রশ্ন আছে
ফ্রি সাইন আপ করে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিস করো