মোট 598+ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর ব্যাখ্যাসহ
ইসলামের সকল শিক্ষাই কোন বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত?
ইসলামের সকল শিক্ষাই তাওহিদ বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাওহিদ অর্থ আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাস, অর্থাৎ আল্লাহ একমাত্র ইবাদতের যোগ্য, কোন অংশীদার বা সহায়ী নেই। ইসলামের সব শিক্ষা, আইন, নৈতিকতা ও আদর্শ এই এক ঈশ্বরের একত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
জনাব সাফি পুত্র সন্তান লাভ করায় দরগায় যেয়ে পিরের নামে গরু জবেহ করে সবাইকে খাওয়ায়। অন্য ধর্মের রীতি অনুসারে তার স্ত্রী পুত্রের কপালে তিলক দেয়।
সাফির স্ত্রীর কাজটিতে—
i. কুফর প্রকাশ পায়
ii. অকৃতজ্ঞতার জন্ম দেয়
iii. অনৈতিকতার প্রসার ঘটায়
নিচের কোনটি সঠিক?
জনাব সাফির স্ত্রীর কাজটি—অর্থাৎ অন্য ধর্মের রীতি অনুসরণ করে সন্তানের কপালে তিলক দেওয়া—ইসলামী দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এটি ইসলামের আকিদা ও পরিচয়ের পরিপন্থী, এবং তা থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়:
i. কুফর প্রকাশ পায় – কারণ এটি ইসলামের বাইরে অন্য ধর্মীয় চিহ্ন ও আচার পালন, যা ঈমানের পরিপন্থী।
ii. অকৃতজ্ঞতার জন্ম দেয় – কারণ সন্তানপ্রাপ্তির জন্য শুকরিয়া আল্লাহর প্রতি আদায় না করে অন্য রীতি মানা অকৃতজ্ঞতা।
iii. অনৈতিকতার প্রসার ঘটায় – কারণ মুসলিম পরিচয় নষ্ট করে ভিন্ন ধর্মীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করা সামাজিক ও ধর্মীয় বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়।
অতএব, সঠিক উত্তর: ঘ. i, ii ও iii।
কোনটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম?
সঠিক উত্তর: খ — ইসলাম
ব্যাখ্যা:
ইসলাম শুধু একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এটি মানুষের আধ্যাত্মিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নৈতিক ও পারিবারিক—সব দিককে নির্দেশনা দেয়। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন।
🔹 তাই ইসলামকে বলা হয় “পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা” (A Complete Code of Life)।
কুফর হল-
i. অবিশ্বাস করা
ii. অস্বীকার করা
iii. আনুগত্য করা
নিচের কোনটি সঠিক?
কুফর
শব্দের
আভিধানিক
অর্থ
অস্বীকার
করা
,অবিশ্বাস
করা
,ঢেকে
রাখা
,গোপন
করা
,অকৃতজ্ঞতা
প্রকাশ
করা
,অবাধ্য
হওয়া
ইত্যাদি
।
ইসলামি
পরিভাষায়
আল্লাহ
তায়ালার
মনোনীত
দীন
ইসলামের
মৌলিক
বিষয়গুলোর
কোনো
একটিরও
প্রতি
অবিশ্বাস
করাকে
কুফর
বলা
হয়
।
হাসিব মনে করে, এই পৃথিবীর জীবনই একমাত্র জীবন। মৃত্যুর পরে মানুষ মাটির সাথে মিশে যাবে। তাকে আর কোনদিন জীবিত করা হবে। না। তার এ ধারণা কীসের শামিল?
হাসিবের এই ধারণা, অর্থাৎ মৃত্যুর পরে পুনরুজ্জীবনের বিরোধী মনোভাব এবং পৃথিবীর জীবনকে একমাত্র জীবন মনে করা, হলো কুফর এর শামিল। কারণ ইসলামে বিশ্বাস করা হয় মৃত্যুর পরে পরকালে জীবনের অস্তিত্ব থাকবে এবং সবাইকে আবার জীবিত করা হবে, যেখানে তাদের কাজের হিসাব নেয়া হবে। এই বিশ্বাস না করা বা অস্বীকার করা কুফরের মধ্যে পড়ে। তাই হাসিবের এ চিন্তা ইসলামি বিশ্বাসের পরিপন্থী এবং কুফর হিসাবে গণ্য।
ইমান ও কুফরের পার্থক্যকারী কোনটি?
একদা হযরত মুহাম্মদ (স.) তাঁর সাথিদের লক্ষ্য করে বললেন- ‘যদি কারও বাড়ির পাশ দিয়ে একটি নদী প্রবাহিত হয় এবং কোনো লোক দৈনিক পাঁচবার ঐ নদীতে গোসল করে, তাহলে কি তার শরীরে কোনো ময়লা থাকবে? সাহাবিগণ উত্তরে বললেন, ‘না’ হে আল্লাহর রাসুল! তখন মহানবি (স.) বললেন- পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ঠিক তেমনি তার (সালাত আদায়কারীর) গুনাহসমূহ দূর করে দেয়। মহানবি (স.) আরও বলেছেন, “সালাত হলো ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী ।” (তিরমিযি)
মানবজাতির জন্য বিশেষ অনুগ্রহ কী?
মানবজাতির জন্য বিশেষ অনুগ্রহ হলো আল-কুরআন। এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সর্বশেষ ও পরিপূর্ণ জীবনবিধান, যা হিদায়েত, দয়া ও সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছে। কুরআনের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর পথনির্দেশ পায়, নৈতিকতা, আখিরাতের সত্যতা এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে। আল-কুরআন শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির মুক্তি ও কল্যাণের বার্তাবাহক। সুতরাং, কুরআনই মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ।
হাসিব মনে করে মহান আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তিনিই একমাত্র আমাদের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা। হাসিবের চেতনায় ফুটে উঠেছে-
হাসিবের চেতনায় যে বিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে—যে তিনি মহান আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয়, একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা হিসেবে মানেন—এটি ইসলামের মূল আকিদা তথা তাওহিদে বিশ্বাস। তাওহিদ মানে আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস করা, যা ইসলামী বিশ্বাসের ভিত্তি।
নিফাক অর্থ কী?
নিফাক অর্থ হলো ‘কপটতা’ বা ছদ্মবেশ ধারণ করা। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে ধর্মীয় বা নৈতিক অনুশাসন মানলেও অন্তরে বিশ্বাস বা সদাচার থাকে না। ইসলামে নিফাককে মুনাফিকির সমার্থক হিসেবে দেখা হয়, যা একজনের চরিত্রের সবচেয়ে নেতিবাচক দিক।
রিসালাত কী?
রিসালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ বার্তা, চিঠি পৌছানো, পয়গাম, সংবাদ বা কোনো ভালো কাজের দায়িত্ব বহন করা । ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণী মানুষের নিকট পৌছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলা হয় ।
মানুষের জন্য মহাসাফল্য হলো—
মানুষের জন্য মহাসাফল্য হলো ডান হাতে আমলনামা পাওয়া, কারণ কিয়ামতের দিন যাদের আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, তাদের পরকাল হবে শান্তিময় ও সফলতাপূর্ণ। এটি জান্নাতপ্রাপ্তির সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
আকাইদ বলতে কী বোঝ?
আকাইদ শব্দটি আকিদা (عقيدة,) শব্দের বহুবচন । আকাইদ অর্থ বিশ্বাসমালা। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসকেই আকাইদ বলা হয় । ইসলাম আল্লাহ তায়ালার মনোনীত একমাত্র দীন বা জীবনব্যবস্থা। এর দুটি দিক রয়েছে । যথা- বিশ্বাসগত দিক ও আচরণগত বা প্রায়োগিক দিক । ইসলামের বিশ্বাসগত দিকের নামই হলো আকাইদ ।
ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় হলো-
ইমানের
সর্বপ্রথম
ও
সর্বপ্রধান
বিষয়
হলো
আল্লাহ
তায়ালার
প্রতি
বিশ্বাস
।
আল্লাহ
তায়ালা
এক
ও
অদ্বিতীয়।
তিনি
ব্যতীত
কোনো
ইলাহ
বা
মাবুদ
নেই
।
তিনি
সকল
কিছুর
সৃষ্টিকর্তা
,পালনকর্তা
ও
রক্ষাকর্তা।
তিনি
সকল
গুণের
আধার
।
তাঁর
সত্তা
ও
গুণাবলি
তুলনাহীন
।
সমস্ত
প্রশংসা
ও
ইবাদত
একমাত্র
তাঁরই
জন্য
নির্ধারিত
।
আল্লাহ
তায়ালার
প্রতি
এরূপ
বিশ্বাস
স্থাপন
ইমানের
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়
।
শিরক এর বিপরীত কী?
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা । ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয় । যে ব্যক্তি শিরক করে তাকে বলা হয় মুশরিক । শিরক হলো তাওহিদের বিপরীত
প্রধান ওহি লেখক হলেন-
হযরত আবু বকর (রা.)-কে কুরআন সংকলন করে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার পরামর্শ দান করেন । পরামর্শ শ্রবণে হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, হে উমর! রাসুলুল্লাহ (স.) যে কাজ করে যাননি তা আপনি কীভাবে করতে চাচ্ছেন? হযরত উমর (রা.) বললেন, আল্লাহর শপথ! এতে কল্যাণ রয়েছে । এভাবে হযরত উমর (রা.)- বারবার অনুরোধ করায় হযরত আবু বকর (রা.) কুরআন সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন । তিনি প্রধান ওহি লেখক সাহাবি হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.)-কে এ গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওহি গ্রহণের পর যাঁরা তা লিখে সংরক্ষণ করতেন, তাঁদের মধ্যে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) অন্যতম ও সর্বাপেক্ষা প্রধান ছিলেন।
এই অধ্যায়ে আরও 583+ প্রশ্ন আছে
ফ্রি সাইন আপ করে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিস করো