মোট 200+ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর ব্যাখ্যাসহ
রজত সাহেব সামান্য বেতনের কর্মচারী। তার ছেলে বুয়েটে পড়ার সুযোগ পেলেও খরচের কথা ভেবে তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একথা জেনে এক ঠিকাদার রজত। সাহেবকে অর্থের বিনিময়ে অন্যায় প্রস্তাব দিলেও তিনি রাজি হননি।
উদ্দীপকের রজত সাহেবের সাথে 'বহিপীর' নাটকের - কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে?
'আমরা কী করিয়া তাহাদের ঠেকাই। আজ না হয় কাল, যাইবেই।'- বাক্যটিতে বহিপীরের কোন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে?
জুলুম করলে আত্মহত্যার ভয় দেখাল কে?
সঠিক উত্তর: গ. তাহেরা
### ব্যাখ্যা:
‘বহিপীর’ নাটকে তাহেরা একজন সাহসী, প্রতিবাদী এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী চরিত্র।
সে যখন বুঝতে পারে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে বহিপীরের সাথে পাঠানো হবে, তখন সে বলে "জুলুম করলে আমি আত্মহত্যা করব"—এই ধরনের হুমকি।
এটি ছিল তার প্রতিবাদের চূড়ান্ত রূপ, যেখানে সে জীবনের চেয়েও মর্যাদাকে বড় করে তোলে।
'ঝোপ বুঝে কোপ মারা'-এ প্রবাদের ভাবার্থ ধারণ করা চরিত্র কোনটি?
সঠিক উত্তর: বহিপীর
ব্যাখ্যা:
'ঝোপ বুঝে কোপ মারা' এই প্রবাদটির অর্থ হলো—সুযোগ বুঝে নিজের স্বার্থে কাজ করা বা ফায়দা লুটে নেওয়া।
‘**বহিপীর**’ নাটকের বহিপীর ঠিক এই ধরনেরই চরিত্র। তিনি মানুষের ধর্মবিশ্বাস ও দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চান। সমাজে তার পীর পরিচয়ের আড়ালে তিনি মানুষকে প্রভাবিত করেন, ভয় দেখান এবং ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য পূরণে নানা কৌশল অবলম্বন করেন।
তাই, এই প্রবাদের ভাবার্থের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র হলো—**বহিপীর**। ✅
'আমি কী বকরী-ঈদের গরু-ছাগল'- তাহেরার এই উক্তিতে কী প্রকাশ পেয়েছে?
সঠিক উত্তর: গ. প্রতিবাদ
### ব্যাখ্যা:
‘**আমি কী বকরী-ঈদের গরু-ছাগল**’ — তাহেরার এই উক্তিটি একটি তীব্র প্রতিবাদমূলক উক্তি। এতে সে তার প্রতি সমাজের এবং পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার আচরণের বিরুদ্ধে আত্মমর্যাদাবোধ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে।
এখানে তাহেরা বোঝাতে চেয়েছে—
👉 তাকে যেন একটি বস্তুর মতো দেখা হচ্ছে, যাকে ইচ্ছামতো দেওয়া-নেওয়ার পণ্য ভাবা হচ্ছে।
👉 অথচ সে একজন মানুষ, যার নিজের ইচ্ছা, মত ও স্বাধীনতা রয়েছে।
তাই, এই উক্তির মাধ্যমে তাহেরার প্রতিবাদী মনোভাব ও আত্মসম্মানবোধ প্রকাশ পেয়েছে, যা নাটকে তার স্বাধীনচেতা ও সাহসী চরিত্রের পরিচয় দেয়।
বহিপীর' নাটকে প্রধান চরিত্র নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর: ক. খোদেজা
ব্যাখ্যা:
'বহিপীর' নাটকের প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে – বহিপীর, তাহেরা, হাশেম আলি এবং হাতেম আলি। খোদেজা নাটকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রধান চরিত্র হিসেবে বিবেচিত নন। খোদেজা তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব বিস্তারকারী ও প্রধান চরিত্র নয়।
তাই সঠিক উত্তর: ক. খোদেজা ✅
'বহিপীর' নাটকের তাহেরা কীসের প্রতীক?
শিলার দাদি পিঠা বানালে অমঙ্গলের আশঙ্কায় সব সময় প্রথম পিঠাটি জজঙ্গলে ফেলে দেন। কাউকে খেতে দেন না।
শিলার দাদি 'বহিপীর' নাটকের কোন চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছেন?
তাহেরা নদীতে ঝাঁপ দিতে চেয়েছিল কেন?
কত সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণীত হয়?
১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণীত হয়। সূর্যাস্ত আইন বলতে তৎকালীন জমিদারি শাসনামলে নির্ধারিত দিনে সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে ওই জমিদারের জমিদারি নিলামে বিক্রি করে বকেয়া আদায় করা হতো।
কত বছর আগে বহিপীরের প্রথম স্ত্রী মারা যান?
চৌদ্দ বছর আগে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর মুরিদের কন্যা তাহেরাকে বিয়ে করেন।
'আমি অত প্যাঁচের ধার ধারি না।' - সংলাপটি কার?
খোদেজা - আমিই বলি। আমি অত প্যাচের ধার ধারি না। পীরসাহেব নেক মানুষ, তিনি ভালোই করতে চান। আমাদেরও, তাঁর বিবিরও। জমিদারি গেলে আমাদের সব যাবে, কিন্তু সে ফিরে গেলে তার কিছু ক্ষতি হবে না। বরঞ্চ সে মান, যশ, সুখ, সম্পত্তি সব পাবে। তিনি যদি না বাঁচান তবে কে তাঁকে বাঁচাবে? তিনি তাঁর জন্য যা করেছেন, তা কেউ কারও জন্য করেন না। মেয়েটা বোকা, তাই বোঝে না। দুঃখ হলো এই যে, সঙ্গে সঙ্গে আমরাও যেন বুদ্ধি হারিয়েছি। এতে এত ভাববার কী আছে?
বহিপীরের মতে কথ্য ভাষার কী নেই?
বহিপীর - আপনি লক্ষ করিয়া থাকিবেন যে আমি কথাবার্তা বিলকুল বহির ভাষাতেই করিয়া থাকি । ইহার একটি হেতু আছে। দেশের নানা স্থানে আমার মুরিদান। একেক স্থানে একেক ঢঙের জবান চালু। এক স্থানের জবান অন্য স্থানে বোধগম্য হয় না, হইলেও হাস্যকর ঠেকে। আমি আর কী করি। আমাকে উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম সব দিকেই যাইতে হয়, আমি আর কত ভাষা বলিতে পারি। সে সমস্যার সমাধান করিবার জন্যই আমি বহির ভাষা রপ্ত করিয়া সে ভাষাতে আলাপ-আলোচনা কথাবার্তা করিয়া থাকি, বহির ভাষাই আমার একমাত্র জবান। তা ছাড়া কথ্য ভাষা আমার কানে কটু ঠেকে। মনে হয়, তাহাতে পবিত্রতা নাই, গাম্ভীর্য নাই। আমার কর্তব্য মানুষের কাছে খোদার বাণী পৌঁছাইয়া দেওয়া। উক্ত কার্যের জন্য পুস্তকের ভাষার মতো পবিত্র ও গম্ভীর আর কোনো ভাষা নাই। কথ্য ভাষা হইল মাঠ ঘাটের ভাষা, খোদার বাণী বহন করার উপযুক্ততা তাহার নাই।
হাতেম আলি - আপনি ঠিক কথাই বলেছেন, বইয়ের ভাষার মতো আর ভাষা নাই। একটা কথা পীরসাহেব, দুর্ঘটনায় আপনার যাত্রার ব্যাঘাত ঘটেনি তো? আপনি কি এই শহরেই আসছিলেন?
'আপনি হ্যাঁ বলেননি লজ্জায়, আর উনি হ্যাঁ বলেননি মত ছিল না বলে'
উক্তিটিতে হাশেম চরিত্রের কোন মনোভাব ফুটে উঠেছে?
সঠিক উত্তর: ক. যুক্তিবাদী
### ব্যাখ্যা:
উক্তিটি—
"আপনি হ্যাঁ বলেননি লজ্জায়, আর উনি হ্যাঁ বলেননি মত ছিল না বলে"
—এই কথার মাধ্যমে হাশেম একটি পরিস্থিতিকে যুক্তি ও বাস্তবতা দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে।
🔹 সে কারও সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিকভাবে না দেখে,
🔹 বাস্তব ও মানসিক কারণ খুঁজে বের করছে,
🔹 এবং এক ধরনের যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষণ দিচ্ছে।
এই মনোভাব যুক্তিবাদী চরিত্রের প্রতিফলন, যা হাশেম চরিত্রকে বাকি চরিত্রগুলোর তুলনায় বেশি সচেতন, বিশ্লেষণধর্মী ও বাস্তববাদী করে তোলে।
বহিপীর কেন কূটকৌশলের আশ্রয় নেন?
উত্তর:
বিবিকে (তাহেরাকে) ফিরে পাওয়ার জন্য বহিপীর নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নেন।
### ব্যাখ্যা:
‘বহিপীর’ নাটকে বহিপীর একজন ছলনাময়, ভণ্ড ও প্রতারক ব্যক্তি। তাহেরাকে পুনরায় দখলে আনার জন্য তিনি—
- ধর্মীয় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন,
- নিজেকে আল্লাহর প্রতিনিধি ও অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন বলে দাবি করেন,
- তাহেরার পরিবার ও সমাজের ওপর প্রভাব ফেলতে চান,
- এবং তাহেরাকে ধর্মভিত্তিক ভয় দেখিয়ে নিজের অধীনে আনার চেষ্টা করেন।
এসব কৌশল মূলত প্রতারণামূলক ও স্বার্থপর মানসিকতার প্রকাশ, যা নাটকের মূল সংকটকে তুলে ধরে।
তাহেরার প্রতিবাদ ও দৃঢ়তা নাটকে এই কূটকৌশলের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী অবস্থান সৃষ্টি করে।
এই অধ্যায়ে আরও 185+ প্রশ্ন আছে
ফ্রি সাইন আপ করে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিস করো