মোট 216+ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর ব্যাখ্যাসহ
কোন দিবসে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়?
১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বিজয় দিবস) থেকে কার্যকর হয়।
১৯৭১ সালে কে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন?
১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এটি ছিল ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত চলা একটি রাজনৈতিক আন্দোলন, যা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল, কারণ সরকার ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করছিল।
মুজিবনগর সরকার কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
i. মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য
ii. দেশকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য
iii. বিদেশি সমর্থন অর্জনের জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত প্রথম অস্থায়ী সরকার ছিল। এটি মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্র সংগ্রামকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর অধীনে এনেছিল। একই সাথে, এই সরকার বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিদেশি সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণেই মুক্তিযুদ্ধকে সফলভাবে পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য এই সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
শহীদ সাহেব লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য জনাব 'ক' এর কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব নিয়ে যান। জনাব 'ক' তাঁর প্রস্তাবের পক্ষে মত দেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাহেব কী হিসেবে অবদান রেখেছেন?
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র যার দ্বারা চালু হয়-
i. চট্টগ্রামের বেতার শিল্পী
ii. পাকিস্তানি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশি সংবাদ সংস্থা
iii. চট্টগ্রামের সংস্কৃতি কর্মী
নিচের কোনটি সঠিক?
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম বেতারের কয়েকজন কর্মী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা মিলে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। এই কেন্দ্র স্থাপনে চট্টগ্রামের বেতার শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তানি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশি সংবাদ সংস্থা এর সাথে জড়িত ছিল না।
মুক্তিযুদ্ধে নারীরা-
i. পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন
ii. সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন
iii. স্বতঃস্ফূতভাবে অংশগ্রহণ করে নি
নিচের কোনটি সঠিক?
মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের নারীরা অসামান্য আত্মত্যাগ করেছেন, যার মধ্যে অসংখ্য নারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন এবং চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে 'বীরাঙ্গনা' উপাধি লাভ করেন। শুধু নির্যাতনের শিকারই নয়, নারীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, আশ্রয় ও তথ্য দিয়ে সরাসরি সহায়তা করেন। এছাড়া অনেক নারী সরাসরি অস্ত্র হাতে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করে শত্রুসেনাদের মোকাবিলা করেছেন। তাই এটি বলা সম্পূর্ণ ভুল যে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেননি; বরং নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণই যুদ্ধের গতিকে বেগবান করেছিল। তাদের এই বিশাল ত্যাগের বিনিময়েই আমরা আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ লাভ করেছি।
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
তাজউদ্দীন আহমদ (২৩শে জুলাই, ১৯২৫-৩রা নভেম্বর, ১৯৭৫) বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সাফল্যের সাথে পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন-
i. প্রথম রাষ্ট্রপতি
ii. ছয় দফার প্রবক্তা
iii. বাংলাদেশের স্থপতি
নিচের কোনটি সঠিক?
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একই সাথে প্রথম রাষ্ট্রপতি, ছয় দফার প্রবক্তা এবং বাংলাদেশের স্থপতি ছিলেন।
প্রথম রাষ্ট্রপতি: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।
ছয় দফার প্রবক্তা: ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে তিনি বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের জন্য ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যা পরে "মুক্তির সনদ" হিসেবে পরিচিতি পায়।
বাংলাদেশের স্থপতি: তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ করেন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম দেন। এ কারণে তাকে বাংলাদেশের স্থপতি বা জাতির জনক বলা হয়।
জনাব 'ক' ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে সদ্য কর্মস্থলে যোগদান করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে যুদ্ধে যোগদান করেন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধে কাদের প্রতিনিধিত্ব করেন?
মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের কত তারিখে শপথ গ্রহণ করেন?
জনাব আকরাম সাহেব একজন চিকিৎসক হিসেবে হাসপাতালে কাজ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে যোগদান করেন।
উদ্দীপকে জনাব আকরাম স্বাধীনতা যুদ্ধে কাদের প্রতিনিধি ছিলেন?
উদ্দীপকে বর্ণিত চিকিৎসক আকরাম সাহেব ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে 'পেশাজীবী' শ্রেণির একজন গর্বিত প্রতিনিধি হিসেবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত পেশাজীবী সমাজ এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে। আকরাম সাহেবের মতো চিকিৎসকরা যুদ্ধক্ষেত্রে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন রক্ষায় এবং অস্থায়ী হাসপাতালগুলোতে দিনরাত সেবা প্রদানের মাধ্যমে যুদ্ধের শক্তি বৃদ্ধি করেন। ইন্টারমিডিয়েট পাঠ্যবই অনুযায়ী, পেশাজীবীরা শুধুমাত্র সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধেই নয়, বরং তাদের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে বহির্বিশ্বে যুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনেও কাজ করেছেন।
উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয় কেন?
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর, ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। এই সরকারকে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরামর্শ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে একটি সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটির মূল কাজ ছিল যুদ্ধকালীন সময়ে সরকারকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া।
কামাল সাহেব দেশাত্মবোধক গান গাইতেন এবং সুন্দর ছবি আঁকতেন। এ কাজে তাঁর খ্যাতি ছিল প্রচুর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি এবং তাঁর আইনজীবী বন্ধু জাভেদ সাহেব যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেন।
মুক্তিযুদ্ধে কামাল সাহেব ও জাভেদ সাহেব কাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন?
নিচের কোনটি মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল?
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল বেতার ভাষণে মুজিবনগর সরকার গঠনের কথা প্রচার করেন কে?
তাজউদ্দিন আহমদ, যিনি পরবর্তীতে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন।
কবে ঘোষণা করেন: ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল।
কোথা থেকে: ভারতের আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকে এই ঐতিহাসিক বেতার ভাষণটি প্রচারিত হয়।
ঘোষণার বিষয়বস্তু: এই ভাষণে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবাসী সরকার (মুজিবনগর সরকার) গঠনের কথা ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বজনমত ও সহায়তা কামনা করেন। তিনি জানান যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি এবং তিনি নিজে (তাজউদ্দিন আহমদ) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এই অধ্যায়ে আরও 201+ প্রশ্ন আছে
ফ্রি সাইন আপ করে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিস করো